শাকিল হোসেনের ``মাছের বিয়ে``



মাছের বিয়ে

মো: শাকিল হোসেন

গত চৈত্রে  ঘটক এলো পুঁটির মায়ের কাছে
বললো এসে তার কাছে এক ভালো পাত্র আছে,
কলমি ডাঙায় বাড়ি যে তার দুই প্রহরের পথ
কুটুম বাড়ি করতে পারো, থাকে যদি পুঁটি মায়ের  মত।

দেড়শো খানা শামুক-ঝিনুক সাথে কতোক পানা
ক্ষুদে-কুটি দিলেই হবে, নেইকো যে তার মানা-

গাঙে নতুন পানি এলে হবে তাদের বিয়ে
এই কথাটি ঠিক হলো বরের বাড়ি গিয়ে-

দেখতে দেখতে বৈশাখ এলো উঠলো সবে ঝড়
গাঙে নতুন পানি এলো মড়াৎ মড়াৎ মর-

চিংড়ি মাছ বুনলো জামা, পদ্ম পাতার টোপর
বুনো পাতায় বোনা হলো কনে পুঁটির কাপড়,
নদীর ধারের করিম চাষীর "জিরাশাইল ধান"
বরজ থেকে আনা হলো কচি-মিঠা পান।

যাত্রা কালে, মোড়ল বোয়াল বললো ডেকে ডেকে
বরণউখা পার  হতে সবাই যেন সাবধানে তে থাকে,
গত আষাঢ়ে পাবদার ছানা পড়েছিল ধরা,
পরে আর যায়নি পাওয়া জ্যান্ত কিংবা মরা!

টোপর মাথায় চললো ছুঁটে সরপুঁটির পাত্র
পেছন পেছন ছুটলো আর সকল বরযাত্র-

   *************************
সকাল থেকে জাল ফেলছে রহিম শেখের বেটা,
মলা-ঢেলা দূরে কথা পড়ছে না কেউ-কেটা,
ওঁত পেতে বসে আছে বরণউখার বাঁকে
সূযোগ পেলে ফেলবে জাল টেংরা-পুঁটির ঝাঁকে।

বিড়ি ফুঁকে সেই কথাটি ভাবলো মনে মনে
ঠিক তখনই উঠলো কেঁপে বিষকাটালির বনে,

গায়ের জোরে জাল ফেললো জেলে বাড়ির ছেলে,
খোদার কসম, জালটি পড়লো এককে বারে মেলে..
***********************
খবর গেলো বিয়ে বাড়ি পড়ে রইলো শেওলা পাতার আসন
দেড়শো খানা শামুক ঝিনুক আর পদ্ম পাতার বাসন।

পটকা মাছের দু'ফোঁটা বিষ পুঁটি খেলো একা
ডেকে বললো, " মাগো আমার, এটাই শেষ দেখ!
সময় আমার শেষ হয়েছে আমি তবে যাই,
গাঙে নতুন বর্ষা এলে লাল টুকটুক্ শাড়ি যেনো তোমার কাছে পাই "

কথা শুনে উঠলো কেঁদে পুঁটি মাছের মায়ে
বেনারসি জড়িয়ে ধরে কনে পুঁটির গায়ে,

যাবার আগে জগৎ সংসারে করে গেলো মাফ
সেদিন থেকে বর্ষা এলেই পুঁটি যে পায় লাল টুকটুক বেনারসির ছাপ!!

Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

High quality articles within 24 hours,buy now